উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমটিতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল, মাল্টিটাস্কিং সুবিধা, উন্নত নিরাপত্তা অপশন এবং কাস্টমাইজেশনের নানা ফিচার। অনেকেই প্রতিদিন এটি ব্যবহার করলেও এর বেশিরভাগ সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফ্ট নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে উইন্ডোজ ১১-এ নতুন ফিচার যোগ করছে। ফলে কিছু সহজ ট্রিকস জানলে আপনার কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে।


উইন্ডোজ ১১-এর এমন ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রিকস তুলে ধরা হলো।


১. স্টার্ট বাটনের অবস্থান পরিবর্তন

উইন্ডোজ ১১-এ স্টার্ট বাটন ডিফল্টভাবে টাস্কবারের মাঝখানে থাকে। তবে চাইলে আগের মতো বাম পাশে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। Taskbar Settings → Taskbar Behaviors → Taskbar Alignment → Left নির্বাচন করলেই সেটি বাম পাশে চলে যাবে।


২. এআই সহকারী ব্যবহার করুন

উইন্ডোজ ১১-এ রয়েছে মাইক্রোসফ্ট কপিলট নামের এআই সহকারী। এটি ইমেইল লেখা, টেক্সট ঠিক করা, ছবি তৈরি, কোড লেখা বা ওয়েবপেজের সারসংক্ষেপ তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।


৩. কুইক সেটিংস প্যানেল কাস্টমাইজ

ওয়াইফাই, ব্লট্যুথ, ব্যাটারি সেভারসহ বিভিন্ন অপশন দ্রুত চালু বা বন্ধ করতে কুইক সেটিংস ব্যবহার করা যায়।


৪. একাধিক ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি

একই কম্পিউটারে আলাদা আলাদা কাজের জন্য একাধিক ডেস্কটপ ব্যবহার করতে পারেন।


৫. উইজেট দিয়ে দ্রুত তথ্য দেখা

উইন্ডোজ ১১-এর উইজেট প্যানেলে আবহাওয়া, সংবাদ, ক্যালেন্ডার, স্টক মার্কেট ও ট্রাফিক আপডেট দেখা যায়।


৬. স্ন্যাপ লেআউটস দিয়ে মাল্টিটাস্কিং

একাধিক উইন্ডো সহজে সাজিয়ে কাজ করার জন্য স্ন্যাপ লেআউটস ফিচার ব্যবহার করতে পারেন।


৭. ফোনকে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করুন

ফোন লিংক অ্যাপ দিয়ে স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন, কল ও মেসেজ সরাসরি পিসিতে দেখা যায়।


৮. পাসকি দিয়ে নিরাপদ লগইন

পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে পাসকি ব্যবহার করলে লগইন আরও নিরাপদ হয়।


৯. ফোকাস সেশনস দিয়ে মনোযোগ ধরে রাখুন

ক্লক অ্যাপের ফোকাস সেশনস ফিচার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে কাজ করা যায়।

এতে মাঝেমধ্যে ছোট বিরতিরও ব্যবস্থা থাকে।


১০. নতুন ফাইল এক্সপ্লোরার সুবিধা

ট্যাবসহ ফাইল এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে একাধিক ফোল্ডার একসঙ্গে খুলে কাজ করা যায়।


১১. সব অ্যাপের তালিকা দেখা

স্টার্ট মেনু থেকে “অল অ্যাপন” অপশন ব্যবহার করে ইনস্টল করা সব অ্যাপ দেখতে পারবেন।


১২. গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ স্টার্ট মেনুতে পিন

যেসব অ্যাপ বেশি ব্যবহার করেন সেগুলো স্টার্ট মেনুতে পিন করে রাখতে পারেন।


১৩. এআই দিয়ে ছবি সম্পাদনা

ডিজাইনার, পেইন্ট, ফটোস অ্যাপ ব্যবহার করে ছবি তৈরি বা এডিট করা যায়।


১৪. থিম দিয়ে ইন্টারফেস বদলান

Settings → Personalization → Themes থেকে নতুন থিম ব্যবহার করা যায়।


১৫. স্টার্ট মেনু কাস্টমাইজ

স্টার্ট মেনুতে সেটিংস, ডকুমেন্টস, পিকচার্স ইত্যাদি শর্টকাট যোগ করা যায়।


১৬. অ্যাপ ও ফাইল রিকমেন্ডেশন

স্টার্ট মেনুতে সাম্প্রতিক ফাইল ও বেশি ব্যবহৃত অ্যাপের সাজেশন দেখায়।

Settings → Personalization → Start


১৭. ডিফল্ট অ্যাপ পরিবর্তন

নির্দিষ্ট ফাইল টাইপের জন্য আলাদা ডিফল্ট অ্যাপ নির্ধারণ করা যায়। Settings → Apps → Default Apps


১৮. ব্যাটারি ব্যবহারের বিস্তারিত দেখা

পাওয়ার অ্যান্ড ব্যাটারি সেটিংস থেকে কোন অ্যাপ কত ব্যাটারি ব্যবহার করছে তা জানা যায়। Settings → System → Power & Battery


১৯. সহজে নতুন অডিও ডিভাইস সংযোগ

ব্লুট্যুথ স্পিকার বা মাইক্রোফোন সহজে যুক্ত করা যায় সাউন্ড সেটিংস থেকে। Settings → System → Sound


২০. নতুন অডিও মোড

মোনো অডিও বা ইনহেন্স অডিও মোড চালু করলে শব্দের মান উন্নত হয়।


২১. নতুন টাচ জেসচার

টাচস্ক্রিন ডিভাইসে নতুন মাল্টি-ফিঙ্গার জেসচার ব্যবহার করা যায়।


২২. নতুন কিবোর্ড শর্টকাট

কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্টকাট: Win + W → Widgets, Win + A → Quick Settings, Win + Z → Snap Layouts, Win + K → Screen Cast


২৩. গেম বার ব্যবহার

Win + G চাপলে গেম বার খুলে স্ক্রিন রেকর্ডিং ও পারফরম্যান্স মনিটর করা যায়।


২৪. নতুন সাউন্ড রেকর্ডার

উইন্ডোজ ১১-এর সাউন্ড রেকর্ডার দিয়ে MP3, WAV ইত্যাদি ফরম্যাটে অডিও রেকর্ড করা যায়।


২৫. নতুন মিডিয়া প্লেয়ার

নতুন মিডিয়া প্লেয়ার দিয়ে গান শোনা ও ভিডিও দেখা সহজ হয়েছে।


২৬. উইন্ডোজ ব্যাকআপ ব্যবহার

ফাইল, অ্যাপ ও সেটিংস ওয়ানড্রাইভ-এ ব্যাকআপ করে রাখা যায়।


২৭. Title Bar Shake

একটি উইন্ডো ধরে ঝাঁকালে অন্য সব উইন্ডো মিনিমাইজ হয়ে যায়।


২৮. নতুন কমপ্রেশন ফরম্যাট

ফাইল এক্সপ্লোরার থেকে সরাসরি ZIP, TAR বা 7z ফরম্যাটে ফাইল কমপ্রেস করা যায়।


২৯. অন্য ডিভাইসের স্ক্রিন পিসিতে দেখুন

Project to this PC ফিচার দিয়ে অন্য ডিভাইসের স্ক্রিন কম্পিউটারে দেখানো যায়।


৩০. মাউস কার্সর সহজে দেখা

অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংস থেকে কার্সরের আকার ও রং পরিবর্তন করা যায়।


এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে উইন্ডোজ ১১ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।